জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তবে ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপে দমে না গিয়ে নিজেদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ।বিশ্বজুড়ে বহুপাক্ষিক কূটনীতি যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, ঠিক তখনই বড় ধরনের ধাক্কা দিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংস্থা ও চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘সনদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যখন কোনো দেশ নির্দিষ্ট কয়েক বছর তার বকেয়া পরিশোধ করে না। তখন আসলে কী ঘটে। এটি অনুচ্ছেদ ১৯ এ আছে। এটি সংস্থার মহাসচিবের একার সিদ্ধান্ত নয়। এটি জাতিসংঘ সনদে রয়েছে। এর মানে কোনো এক সময় সংশ্লিষ্ট দেশ সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারাতে পারে।’ব্রিফিংয়ে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া অর্থের বিষয়টিও। ২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করেনি বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে অর্থ প্রদান না করলে বা সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ালে কি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার থাকবে কিনা। জবাবে সংস্থার মুখপাত্র জানান, কোনো দেশ টানা কয়েক বছর বকেয়া রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারানোর বিধান রয়েছে।
স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘জাতিসংঘ তার জায়গায় অটল আছে। যা বারবার দিয়ে আসছে। তা হলো সনদের ধারাগুলো বিশ্বাস করে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক বিষয় নিষ্পত্তিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশ্বাস করে জাতিসংঘ।’সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহারের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্কিত এক বিবৃতি এবং ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান। মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলায় ১০০ জন নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হামলা চালানোর হুমকির বিষয়ে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে শক্তি প্রয়োগের কোনো স্থান নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন পুলিশের গুলিতে এক নারী নিহতের ঘটনায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। দায়ীদের যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
Mytv Online